দীর্ঘদিন ধরে নগরীর দৌলতপুর বাজারে পকেটমারদের দৌরাত্ম আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরুষ পকেটমারের পাশাপাশি বোরখা পরিহিত মহিলা পকেটমারাও সমানভাবে সক্রিয়। এদের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত সর্বস্বান্ত হচ্ছে ক্রেতা সাধারণ। ধরা পড়লে পুলিশে সোপর্দ করে দায়মুক্ত হচ্ছে বাজার কমিটি। পুলিশ বলছে এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের জানা নেই। প্রতিরোধে বাজার কমিটি কিংবা পুলিশ প্রশাসনের কার্যকরী কোনো ভূমিকা নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পকেটমারের শিকার ভুক্তভোগী বাজার কমিটি কিংবা সংশ্লিষ্ট থানা বা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দেয় না বলে জানা গেছে।
৭৮ বয়সী শেখ আব্দুল মতিন। গরুর মাংস তার খুবই পছন্দের। ১৩০০ টাকা নিয়ে বাজারে যান মাংস কিনতে। বাজারের বিহারি মাংস ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাংস কিনে পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিয়েই হতবাক। কখন তার পকেটমার হয়েছে বলতে পারেন না। দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে মনোকষ্টে বাড়ি ফেরেন। আব্দুল মতিন থাকেন রেলীগেট আকাংখা আবাসিক এলাকায় ছেলের বাড়িতে।
দিঘলিয়া উপজেলার হতদরিদ্র পঞ্চাশোর্ধ স্বামীহারা সরস্বতী। গ্রামে বাড়িতে ঘুরে চানাচুর-বুটভাজা বিক্রি করে সংসার চালান। শুক্রবার সকালে দৌলতপুর বাজারে আসেন পাইকারি মালামাল কেনার জন্য। চানাচুরের দোকানের সামনে থেকে তার হাতে ঝোলানো ব্যাগ কেটে ৭শ’ টাকা নিয়ে যায় পকেটমার।
গত রমজান মাসে স্বামীর দু’মাসের পেনশন, বৈশাখী ভাতা, ঘরে জমানো টাকা সব মিলিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে ৬০ বছর বয়সী নবিরোন বেগম ছেলে রিয়াজ খান, পুত্রবধূ জান্নাতুল মাওয়া এবং পুতা রেদোয়ানকে নিয়ে দৌলতপুর বাজারে যান। উদ্দেশ্য ঘরের কিছু আসবাবপত্র ক্রয়সহ ঈদের কেনাকাটা। ৮ হাজার টাকায় একটি টি-টেবিল কেনার পর বাকী জিনিসপত্র কেনার চিন্তাভাবনা করছেন। এরই মধ্যে নবিরোন বেগমের পার্সের ব্যাগে রাখা বাকি টাকা উধাও। নির্বাক এবং হতবাক নবিরোন বেগম। মনের কষ্টে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বাড়িতে এসে টাকার শোকে কয়েকদিন অঝোরে কেঁদেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানায়। মহেশ্বরপাশা পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন বাড়িতে স্বামী সন্তানদের সঙ্গে তিনি বসবাস করেন।
শুধু আব্দুল মতিন, নবিরোন বেগম, চানাচুর-বুট বিক্রেতা স্বরসতি নয় প্রতিনিয়ত দৌলতপুর বাজারে এসে পকেটমারের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেকে। বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, কয়েকদিন আগেও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ৫০ হাজার টাকা পকেটমার হয়।
বাজার কমিটির সভাপতি শেখ আসলাম হোসেন বলেন, ‘পকেটমার বেড়েছে। অনেকদিন ধরে এটা চলছে। তবে রোজা এবং কোরবানির ঈদে বেশি হয়। মহিলা পকেটমার বেশি। বহু মহিলা মানিব্যাগ নিয়ে আসে। ভিতরে মোবাইল থাকে। ভিড়ের ভিতর পট করে মোবাইল নিয়ে যায়। আমাদের সিদ্ধান্ত পকেটমার ধরলে তাৎক্ষণিকভাবে ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে সোপর্দ করা। উনারা থানায় নিয়ে কি করেন আমরা জানি না।’
স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাকিরুল ফিরোজ বলেন, ‘আমি এসেছি চার মাস। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। কেউ অভিযোগ না করলে আমরা জানবো কীভাবে। আমাদের টহল টিম বাজারে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকে। প্রতিদিন বিকেলে বিএল কলেজের গেট থেকে মুভমেন্টে থাকে।’
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুরাদুল ইসলাম বলেন, ‘পকেটমার হচ্ছে এ ধরনের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। ১৫ দিন হলো থানায় এসেছি। এরমধ্যে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। বাজারের পাশে পুলিশ ফাঁড়ি আছে, ওদেরকে বলে দিব তৎপরতা বাড়াতে।’
খুলনা গেজেট/এনএম

